সময় সংবাদ ডেস্কঃ
করোনার কারণে কাজ হারিয়েছেন গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ। পকেট ফাঁকা, পেটেও ক্ষুধা। দুই বেলা ঠিক মতো খাওয়ার আশায় কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে অন্তত ১২ জনের সন্ধান মিলেছে, যারা দারিদ্রের ছোবল থেকে বাঁচতে কিডনি বিক্রি করেছেন।
ভারতের আসামের ধরমতুল গ্রামের পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ওই গ্রামের দিনমজুররা নিজের কিডনি বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন।
৩৭ বছরের সুমন্ত দাস। পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও লকডাউনে বেকার। একদিকে ঘরে চাল নেই, অন্যদিকে ছেলের অপারেশন করাতে হবে। ঋণের বোঝাও রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ৫ লাখ রুপির জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করে দেন তিনি। কিন্তু দালালরা তাকে দেড় লাখ রুপির বেশি দেননি। ওই টাকায় ছেলের অপারেশন হয়নি। এদিকে কিডনি হারিয়ে তিনিও ভারী কাজ করতে পারছেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, দরিদ্র মানুষদের নানাভাবে রাজি করান একদল দালাল। তারা এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে একজন নারীও।
জানা গেছে, ওই নারী ও তার ছেলে বিভিন্ন পরিবারের কাছে গিয়ে কিডনি বিক্রি করতে উসকানি দিতো। পুলিশ দুজনকেই গ্রেফতার করেছে। চক্রের মূলহোতাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সুমন্তর মতো হতভাগ্য আরও অনেকই রয়েছেন। কৃষ্ণা দাস নামে এক নারীর স্বামীও একইভাবে দালালদের টোপে পা দিয়েছেন। কিডনি বেচে সাড়ে চার লাখ রুপি দেয়ার কথা বলা হলেও পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ রুপি। এদিকে মাথার উপরে ঝুলছে ৭০ হাজার রুপির ঋণের বোঝা।
কিডনি হাতিয়ে নেয়া এই চক্রকে নির্মূল করতে সক্রিয় হয়েছে আসাম পুলিশ। এ নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে তারা।