![]() |
বাঁচতে হলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান | সময় সংবাদ |
মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ
পাহাড় ধস থেকে বাঁচতে হলে বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ের পাদদেশে যারা ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, শুরু হচ্ছে বর্ষা মৌসুম। বর্ষা মৌসুমে বিগত কয়েক বছর ধরে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, ক্ষতি হচ্ছে জান-মালের। তাই বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে যাতে আর মানুষের ক্ষতি না হয় তার জন্য লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস, বন্যা, ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাসরিন সুলতানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য বিপুল ত্রিপুরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহেদুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্যানেল মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, কাউন্সিলর বাচিং মারমা, নুরুন্নবী, রাঙ্গামাটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম প্রমূখ।
সভায় রাঙ্গামাটি ১০উপজেলার মধ্যে যেসব উপজেলা বন্যা কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেসব উপজেলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সরকারী ত্রাণ সহায়তা পৌছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, জেলার অধিকাংশ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে। এখানে উল্লেখযোগ্য সমতল ভূমি নেই। পাহাড়কে ঘিরে এখানে বসতি গড়ে উঠেছে। কিন্তু এখানকার পাহাড়ের মাটি অত্যন্ত নরম। বর্ষা আসলে মাটি ধসে যায়। যে কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ে বসবাসকারীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে সভায় অনুরোধ জানান তিনি।
পাশাপাশি ক্ষয়-ক্ষতি এবং প্রাণহানী এড়াতে রাঙ্গামাটি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারনকে সচেতন করতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে এলাকায় এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ প্রশাসনের অন্যান্য বিভাগ সমূহকে সচেতনতামূলক গিয়ে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ২৯টি আশ্রয় কেন্দ্র সব সময় প্রস্তুত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। একই তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে পাহাড়বাসিদের সর্তক করতে মাইকিং করা হচ্ছে।