![]() |
প্রাণিসম্পদের ঘোষনা আর বাস্তবতার নেই কোন মিল- ভুক্তভোগী খামারিরা | সময় সংবাদ |
ওবায়দুল ইসলামর রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি:
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ঘোষণায় খুশি হয়েছিলো দেশের খামারি ও কৃষকরা। “আমদানি কোন পশু দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলামনদের পবিত্র ঈদের কোরবানি করা হবে না। ঘোষণাকে উপেক্ষা করে উত্তরঞ্চলের বৃহত্তর পশু বিক্রির কেনাবেচার হাট দখল করে আছে ভারতীয় গরু-মহিষ।
আগামী জুলাই মাসের সম্ভাব্য ১০ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলিমের বড় ঈদ উৎসব ঈদুল আজহা। ইতোমধ্যে কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভারতিয় পশু আসতে শুরু করেছে সিটিহাটে। গত সপ্তাহ রাজশাহীর সিটি পশু হাটে দেশী গরুও চেয়ে ভারতীয় গরু দখল করে আছে সিটির পশু হাট। হাটে পশু আমদানির তুলনায় ক্রেতার ভিড় তেমন নেই।
ভারতিয় আমদানিকৃত পশুর কারনে দেশিও গরু খামারিার তেমন লাভবান হতেক পারবে না। তবে তারা হয়ত ভালো দামেই দেশি গরু বিক্রি করতে পারতো যদি ভারতিয় গরু আমদানি না হতো। আমদানি করা গরুর তুলনায় বাজারে দেশি গরুর কিছুটা দাম বেশি। বর্তমান কোরবানির জন্য সাধারণ ক্রেতারা গরু কিনতে শুরু করেনি।
প্রসঙ্গত, এবারের কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ কোটি ২১ লাখ পশু। ভারতীয় ৮-৯ মণ ওজনের গরুর দাম জানা যায় ১ লাখ ৭০ হাজার। অপরদিকে দেশিও ৮ মণ ওজনের ০১টা গরু মূল্য ০২ লক্ষের কাছাকাছি। অন্যদিকে স্থানীয় বিক্রেতা ও খামারিরা জানান, গরুর খাবারের দাম অনেক বেড়ে গেছে।
বড় অংকের টাকা খাবার ও চিকিৎসায় খরচ হয়েছে। তাই ভালো দাম না পেলে গরু বিক্রি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। প্রতিবছর প্রাণীসম্পদ দপ্তর থেকে ভারতীয় গরু-মহিষ আমদানি বন্ধ ঘোষণা দিলেও গোপনে চলে আসছে ভারতিয় গরু। যার কারনে খামারিরা লাভের স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছে না। হাটে ভারতীয় গরু নেই। দেশের সীমানায় কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে বিজিপি। গতবারের তুলনায় গরুর দাম বেশি। খামারিরা লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছে রাজশাহী পশু সিটি হাটের মালিক কালু।
এবিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২০ লক্ষ ১০ হাজার ৫৬৮টি। রাজশাহীর ০৮ জেলায় ০১লব্ষ ৬৪ হাজার ৬১৯ জন খামারির ২৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৬০টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। এবারের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আছে প্রায় ৭ লক্ষ পশু। বিভাগের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার ১৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টি ছাগল রয়েছে।
ভেড়া রয়েছে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৫৪৯টি। এছাড়া গরু-মহিষ রয়েছে ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯০৩টি। রাজশাহী জেলা প্রণিসম্পদ দপ্তর বলছে- জেলায় চাহিদা রয়েছে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার ১১৮টি পশু। কিন্ত কোরবানির জন্য প্রস্তুত লাভ হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৫২টি। যার হিসাবে ১০ হাজার ৭৩৪টি গরু বেশি উৎপাদন হয়েছে। জেলার ০৯টি উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৯ জন খামারি রয়েছে। তাদের কাছে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৭২টি গরু, ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ২৩৫টি ছাগল, ৩৮ হাজার ২৪৫টি ভেড়া রয়েছে এবং মহিষ আছে ৩ হাজার ২১১টি।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে “দেশের বাহিরের কোন পশু আমদানি (গরু-মহিষ) করা হবেনা। ভারতীয় গরু আসলে তো দাম দেশের খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর দাম কমে যাবে। আমদানি বন্ধে সরকারিভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কে সচেষ্ট ভাবে দায়িত্ব পালন নির্দেশ দিয়েছ সরকার। অনাকাঙ্খিত ভাবে ভারতীয় গরু আমদানি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রণিসম্পদ দপ্তর সবসময় দেশের খামারিদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জুলফিকার আখতার হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, ভারতীয় গরু রাজশাহীর সিটি হাটে আসার খবর তাদের কাছে নেই। তাছাড়া ভারতীয় গরু রাজশাহীর বর্ডার দিয়ে আমদানির চেষ্টা করা হয় তাহলে বিজিবি বিষয়টি দেখবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, কোরবানির জন্য চাহিদা অনুযায়ী পশু মজুত রয়েছে।
এই বছরে কোরবানিতে ভারতিয় পশু দেশ আসবে না। চলতি বছর কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ২১ লাক্ষেরও বেশি, যা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত। গতবারের তুলনায় এবার কোরবানি বেশি হবে। চলতি বছর ১ কোটি ২১ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৮৯টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ লক্ষ ৭ হাজার বেশি। দেশীয় পশুতে চাহিদা পূরণ হওয়ায় ভারতিয় গরু আমাদানি বন্ধের কঠোর অবস্থানে রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এমনটায় তথ্য দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহাজাদা।