![]() |
চরভদ্রাসনে সন্তানের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ পিতার মানববন্ধন |
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ছেলের অন্যায়-অত্যাচার ও জোর পূর্বক জমি দখলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারী) দুপুরে নিজ বসতবাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের মো: মোসলেম খান(৬৩)।মানববন্ধনে তিনি তার বড় ছেলে মোস্থফা কামাল মুক্তাদির (৪০) এর বিরুদ্ধে জমি দখল ও মারামারির অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জানায়,মোসলেম খান তার বসতবাড়ি ও জমিজমা তিন ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেয়।ভাগ পাওয়ার আগেই বড় ছেলে জমির সামনের অংশ দখল করে বাড়ি তৈরী করে।তার পরের অংশ মেঝ ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন মুসাকে দেয় এবং তার চলাচল করার জন্য মেইন রাস্তা থেকে আলাদাভাবে ৬ শতাংশ জমি লিখে দেয়।এই রাস্তাদিয়ে ৩০ টি বসতবাড়ির লোকজন চলাচল করে। কিন্তু বড় ছেলে মোস্থফা কামাল মুক্তাদির অন্যায় ভাবে এই রাস্তা দখল করে দেয়াল তুলে দেয়।প্রতিবাদ করলে সে তার বাবার গায়ে কয়েকদফায় হাত দেয় এবং আঘাত করে।পাড়া প্রতিবেশী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এর প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকিধামকি ও মামলা দিয়ে ভয়-ভীতি দেখায়।
ভুক্তভোগি মোঃ মোসলেম খান আরো জানায়,এই ছেলের জন্য আমার জিবনটা দুবির্ষয় হয়ে গেছে।সে আমার মেঝ ছেলের জমি জোর করে দখল করেছে।প্রতিবাদ করলে আমাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।মসজিদে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নিমার্ন করে দিয়েছে।ওর মাকেও অকথ্য ভাষায় বারবার গালিগালাজ করেছে।এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে । এই অবস্থা থেকে আমি বৃদ্ধ মানুষ রেহাই চাই।
ভুক্তভোগী খালেদা বেগম(৫০) জানান, ‘এই রাস্তা আমরা বাধছি,অথচ এই রাস্তায় আমরা চলাচল করতে পারিনা।আমাদের দা-কোড়াল নিয়ে কুবাইতে আসে।আমার পেটের সন্তান আমার কথা শোনে না।তার শুধু জমির লোভ।আমাদের সে চেনে না’
তুলি খাতুন (২৯) জানান,মোস্থফা কামাল মুক্তাদির (৪০) আমার দেবর, এই রাস্তা আমাদের হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সেখান দিয়ে চলাচল করতে দেয়না।দেয়াল তুলে দিয়েছে।প্রতিবাদ করাতে আমাকে মারধর করেছ। এ ব্যাপারে এর আগে আমি থানায় অভিযোগও করেছিলাম।আমাদের চলাচলের পথ চাই।
অভিযুক্তর ছোটভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন মুসা জানান,এই রাস্তাটি আমার বাবা আমার নামে লিখে দেয়। কিন্তু আমার বড় ভাই আমাদের এই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এর গ্রাম্য আদালতে সালিশ ডাকলে সে সেখানে উপস্থিত হয়নি।পরবর্তীতে ইউএনও অফিসে অভিযোগ দিলে সেখান থেকে সালিশ ডাকলেও সে উপস্থিত হয়নি।পরবর্তীতে ইউএনও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিকে বিষয়টি তদন্ত করার দায়ীত্ব দিলে সে তাদের নামেও মিথ্যা মামলা দায়ের করে।সে একজন মামলাবাজ ।কথায় কথায় ভুয়া মামলা দেয়।
ভুক্তভোগি এলাকাবাসী আলী খান জানান,আমি প্রবাসে থাকায় আমার জমির ওপর মোস্থফা কামাল মুক্তাদির পুকুর খনন করেছে। এখন বসতবাড়ির মাটি ভেঙে সেই পুকুরে যাচ্ছে।বারবার বিষয়টি সমাধান করতে বলাতে এখন আমার নামেও মামলা দিয়েছে।তার অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
এইসব ব্যাপারে মোস্তফা কামাল মুক্তাদির জানান, রাস্তার জায়গাটি আমি আমার এক কাকার কাছ থেকে ক্রয় করি। কিন্তু আমার মেঝ ভাই আমার জায়গায় মাটি ও গাছপালা কাটতে আসে। আমি এব্যাপারে বাধাঁ দিলে সে আমাকে মেরে হাত ভেঙে ফেলে। আমি আমার কেনা সম্পত্তিতে চলাচলের রাস্তা দিবো না।
চরভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান জানান,মোঃ মোসলেম খান আমাদের একটি অভিযোগ করেছিলো। আমরা বারবার বিবাদীকে ডেকেছি,নোটিশ প্রদান করেছি, কিন্তু সে আসেনি।তাই আমি বাদী পক্ষকে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।