![]() |
মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা |
মোঃ মহসীন আলম:
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তর বিশিষ্ট। পাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তর । মাধ্যমিক পর্যায়কে আবার নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের ছয় বছরের ( প্রাক-প্রাথমিক সহ ) শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করার পরেই একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক (নিম্ন মাধ্যমিক) স্তরেরে শিক্ষা গ্রহনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী সাধারনত ১২ বছর বয়স হতে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা গ্রহন করে থাকে। মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহনের সময়ই একজন শিক্ষার্থী তার জীবনের সবথেকে চ্যালেঞ্জিং সময় অতিবাহিত করে থাকে, যা বয়ঃসন্ধিকাল (অফড়ষবংপবহপব) নামে পরিচিত। বয়ঃসন্ধিকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সময়। শিক্ষার্থীর মনে এসময় নানা কৌতূহল , প্রশ্ন ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে থাকে। অন্যের আদেশ, নির্দেশ মানতে ভালো লাগে না তাদের ,স্বাধীনভাবে চলতে চায় সে । অন্যের পছন্দ অপেক্ষা নিজের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাওয়া, অভিভাবক অপেক্ষা বন্ধুদের মতামতকে প্রাধান্য বেশি দেওয়া এ সময়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্য । সঠিক বন্ধু নির্বাচন করতে না পেরে জড়িয়ে পড়ে মাদকের মতো নেশার জগতে।
বয়ঃসন্ধিকালের এই জটিল সময়ে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকমন্ডলী শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকেন। মা-বাবার চেয়ে এসময়ে শিক্ষার্থী শিক্ষকদের প্রতি অধিক আকৃষ্ট থাকে। বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানভান্ডার দিয়ে একজন মাধ্যমিক শিক্ষকই পারেন এই ক্রিটিক্যাল সময়ে শিক্ষার্থীর পাশে থেকে তাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।
নৈতিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মানে মাধ্যমিক পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা গ্রহন ও চর্চার বিকল্প নেই। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীর নৈতিক ও মানবিক বিকাশের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হলে বর্তমান সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয় দৃশ্যমান হচ্ছে তা রোধ করা সম্ভব হবে। আজকাল পত্রিকা খুললেই দেখা যায় কিশোর গ্যাঙয়ের দৌরাত্ব , ছিনতাই, খুন ধর্ষনের মতো খবর যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জড়িত রয়েছে কিশোররা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও আজ অসহায়। কেননা কোনো শিক্ষার্থীর অন্যায় কাজ কিংবা আচরণ প্রতিরোধ করতে গেলে তাঁদেরও জীবনহানি ঘটতে পারে এবং অতীতে ঘটেছে।তারপরেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বিত চেষ্টা ছাড়া এর থেকে শিক্ষার্থীদের ফেরানো সম্ভব নয়। প্রকৃত নৈতিক শিক্ষার মাধয়মেই যেকোন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া হতে শিক্ষার্থীকে রক্ষা করা সম্ভব।
বিশ্বায়নের এই যুগে নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর ব্যাক্তিগত উন্নয়ন সাধন,জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই। মাধ্যমিক স্তরের একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ জীবনের উচ্চশিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত না করলে সফলতা অধরা রয়ে যাবে। মেধা, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার গুরুত্ব অনিস্বীকার্য ।
লেখক: মোঃ মহসীন আলম, সহকারী শিক্ষক (গণিত), কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর।